শিরোনাম :
ফিলিপাইনের বনে প্রথমবার দেখা মিলল পাঁচ ফুট ডানার বিরল বাদুড়ের সরকার গঠনে সমঝোতার আহ্বান ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা: বিজিএমইএ আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত ইসমাইল জবিউল্লাহ পুলিশ পরিদর্শক থেকে এএসপি হলেন ৬৭ কর্মকর্তা প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়লেন এল-সায়েদ গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে: দিপু ভূঁইয়া জামায়াত আমিরের সাড়া না পাওয়া শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মার্কিন ভোটাররা বিরক্ত হলে ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প রেড ক্রিসেন্টের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

জামায়াত আমিরের সাড়া না পাওয়া শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম / ০ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ ২৪: চাকরির জন্য বহুবার গিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে। নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে লিখেছেন খোলা চিঠিও। কিন্তু কোনোবারই মেলেনি প্রত্যাশিত সাড়া। বরং চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অবশেষে বিভিন্ন মিডিয়ায় নিজের জীবনসংগ্রামের কথা প্রকাশের পর মিলেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। তবে সেই সুযোগ এসেছে বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে। ১৩ বছর আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই করা শিবিরের তৎকালীন তুখোড় নেতা সাব্বির প্রামাণিককে ম্যানেজার পদে চাকরি দিয়েছেন তিনি। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে সাব্বিরের পরিবারে।

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আসে। প্রতিবেদনটি পড়েই তিনি সাব্বিরের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে সাব্বির পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা এবং মাছের খামার দেখাশোনা ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি ভালো বেতনও দেওয়া হচ্ছে।

চাকরি পেয়ে সাব্বির বলেন, আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।

সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন রাজনৈতিক সহিংসতায় বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। ওই ঘটনায় তাঁর সহকর্মী শিবিরনেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁর দাবি, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাঁকে মৃত হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বেঁচে আছেন তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা তাঁকে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে দেয়নি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই কাজও চালিয়ে যেতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তাঁর পরিবার।

এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন দলের একসময়ের রাজপথ কাঁপানো নেতা সাব্বির। চিঠিতে সংগঠনের জন্য কাজ করার পরও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। চাকরির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি জামায়াত।

এদিকে সাব্বিরের চাকরি পাওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আনন্দ ও স্বস্তি ফিরেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে সাব্বির আবারও স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অতীতের হিসাবনিকাশের বাইরে একজন অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের আকুতিতে সাড়া দেওয়ার এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যে সাব্বির চাকরির জন্য একসময় নিজের রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতার কাছে চিঠি লিখেও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন, সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর