বগুড়া নিউজ ২৪: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার আগে তিনি উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই সময় তার সঙ্গে একজন তরুণী এবং তার জুনিয়র বন্ধু দীপ উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীরা ওই তরুণীকে তাহসিফের বান্ধবী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও তার বান্ধবী একটি মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৃথক একটি মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন দীপ। তিনজনই নিজ নিজ মোটরসাইকেল পার্কিং করে রেস্টুরেন্টের ভেতরের দিকে এগিয়ে যান।
ফুটেজের আরেকটি অংশে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মাথায় হেলমেট পরা অবস্থাতেই দীপ সেখানে পৌঁছান এবং এরপর তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে উঠে যান। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তিনজন আবার মোটরসাইকেলে চড়ে স্থান ত্যাগ করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ দুজনে মিলে চলে যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। ঘটনার রাতে তাহসিফের বিভিন্ন স্থানে চলাচল ও অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে এখন মনোযোগ দিয়েছেন তদন্তকারীরা, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।
এদিকে এই মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয়।