রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নির্মাণে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের আপত্তি

প্রতিনিধির নাম / ২ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ ২৪্র:যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত বিশাল বিজয় তোরণ নির্মাণের পক্ষে সরকারের দেওয়া ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক।

শুক্রবার শুনানির সময় জেলা আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকান সরকারের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, এই তোরণ নির্মাণের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে যুক্ত।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সময় সরকার আগে কখনো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনেনি। এবারই প্রথম এ ধরনের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট (৭৬ মিটার) উচ্চতার একটি বিশাল সাদা রঙের বিজয় তোরণ নির্মাণ করা হবে। ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত বিখ্যাত ‘আর্ক দ্য ট্রায়ম্ফ’-এর আদলে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রথমবার প্রকল্পটির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি। তবে পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তোরণটিতে অত্যাধুনিক সামরিক স্থাপনা থাকবে। সেখানে ড্রোন ও স্নাইপার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

শুনানিতে বিচারক চুটকান বলেন, হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সময়ও ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। তবে শুধু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বললেই কোনো প্রকল্পের পক্ষে সেই যুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।

এ সময় মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী রবার্ট স্ট্যান্ডার বলেন, তোরণ নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।

প্রস্তাবিত তোরণ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আদালতে মামলা করেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের একদল সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী ওয়েন্ডি লিউ আদালতে বলেন, তোরণটি আকারে এতটাই বিশাল হবে যে এটি লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির মধ্যকার দৃশ্যমান সংযোগ আড়াল করে দিতে পারে। লিংকন মেমোরিয়াল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। অন্যদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রিতে সমাহিত রয়েছেন দেশটির কয়েক লাখ সামরিক বাহিনীর সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের ব্যক্তিগত ছাপ রাখতে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ তারই একটি।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসে বিশাল বলরুম নির্মাণ। এ জন্য প্রেসিডেন্টের বাসভবনের একটি সম্পূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল মলের বিশাল জলাধার ‘রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারের কাজও চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে জলাধারটির ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ট্রাম্প ঐতিহাসিক ওয়াটারফ্রন্ট গলফ কোর্স ‘ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকস’-এর আধুনিকায়নের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে এ প্রকল্প নিয়েও আইনি বিরোধ চলছে। শুক্রবার এ মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারক তদন্ত শুরু করেছেন। প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এদিকে, প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা কেন্দ্র ‘কেনেডি সেন্টার’-এর দেয়ালে একসময় ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে পরে সেই নাম সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নির্মাণ বন্ধে করা মামলার বিষয়ে বিচারক চুটকান শুক্রবারই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর