শিরোনাম :
ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ৩ লাখ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার অন্তঃসত্ত্বা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে যেতে হবে: রাহুল গান্ধী ফ্রান্সে আবারও শুরু হচ্ছে হাই স্কুল অবরোধ : শিক্ষার্থী সংগঠন ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া: কেসিএনএ দূষণ মোকাবিলায় দিল্লিতে কার্যকর হলো নতুন কড়াকড়ি নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ অক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ২৮৭ কোটি ডলার তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর, শুল্ক বাধা নিরসনে গুরুত্বারোপ কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের শততম জন্মদিন আজ যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মী-সংকট নিরসনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম / ৩ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ ২৪: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার চায় এ শিল্প আরও এগিয়ে যাক, রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।

আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

গতকাল রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর আজ সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িত হবে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে কিংবা অযথা বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ এবং উসকানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে।

এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।

আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়।

তিনি আরও বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে চায়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর