বগুড়া নিউজ ২৪: বর্ষার পানি কমতে শুরু করতেই সিরাজগঞ্জের চলনবিলে শামুক ও ঝিনুক আহরণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই প্রাণীগুলি জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পানির ক্ষুদ্র জীব ও জৈব পদার্থ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। শামুক বিভিন্ন মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু প্রজাতির শামুক পানির কণাবস্তু ছেঁকে খাওয়ার মাধ্যমে পানির স্বচ্ছতা ও পুষ্টিচক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়, বিশেষ করে খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড়ে শামুক-ঝিনুক বংশবিস্তার করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত শামুক নিধন অব্যাহত থাকলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শামুক আহরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও নির্বিচারে সংগ্রহ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চলনবিলে আহরণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার জানান, সরকারিভাবে শামুক-ঝিনুক সংরক্ষণে উদ্যোগ থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তিনি বলেন, শামুক জলাশয়ের প্রাকৃতিক পরিশোধন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তাই এ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের আওতায় শামুক সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে আইন প্রয়োগের জন্য শামুকের প্রজাতি, প্রযোজ্য আইনের বিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার যাচাই করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আইন থাকলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি, আহরণের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রজনন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শামুকের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের পরিবেশগত বিষয়ে সচেতন করাও জরুরি।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শামুক-ঝিনুক জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বিচারে নিধনের ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।