শিরোনাম :
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা সানায়ে তাকাইচির বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সুযোগ এসেছে: প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ মন্তব্যের প্রতিবাদ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি জামায়াত-শিবিরের ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৫৪৩ প্রথমবার দ্বিতীয় সন্তানকে প্রকাশ্যে আনলেন দীপিকা-রণবীর
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

ম্যারাডোনার মৃত্যুর মামলার রায় ২২ ডিসেম্বর

প্রতিনিধির নাম / ০ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ: আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ২২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আদালত এ তারিখ ঘোষণা করেন। ছয় মাস ধরে চলা এ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার শেষ দিনে ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা এবং কয়েকজন আসামি আদালতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে দালমা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তাঁর প্রাপ্য। অন্য যেকোনো মানুষের মতোই।’

মামলার প্রধান আসামি ম্যারাডোনার সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক লেওপোলদো লুকে। আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। হৃদ্‌যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তিনি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের উত্তরে তিগ্রে শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছিল।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ায় ৭০ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলিরা সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করেছেন। প্রধান আসামি লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

বুধবার মামলার শেষ যুক্তিতর্কে লুকের আইনজীবীরা কৌঁসুলিদের সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হয়েছিল ম্যারাডোনার মৃত্যু আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলকে এই মামলার ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় লুকে নিজের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর আইনজীবীরা অডিও রেকর্ডিং, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করেন। এসব উপস্থাপনায় ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে লুকে বলেন, ‘আমাকে আক্রমণ করা সহজ, কারণ ম্যারাডোনার সবচেয়ে কাছে আমিই ছিলাম। আমার পক্ষে কথা বলার মতো একজনই আছেন, দিয়েগো। আমি তাঁকে অনেক যত্ন করতাম। আমি তাঁকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’

মামলার মূল প্রশ্ন হলো, হাসপাতালের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ম্যারাডোনাকে সুস্থ হওয়ার জন্য রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না।

সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, বাড়িটিতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ছিল। সেখানে হাসপাতালের বিছানা, ডিফিব্রিলেটর কিংবা দ্রুত পাওয়া যায় এমন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। তাঁদের মতে, এসব ঘাটতি আসামিদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ।

এ ছাড়া কয়েকজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমা, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন এবং শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এসব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাঁর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এখন রায়ের অপেক্ষায় ম্যারাডোনার পরিবার ও ভক্তরা। আগামী ২২ ডিসেম্বর আদালতের রায়ে নির্ধারিত হবে, এই মামলায় অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়ী সাব্যস্ত হন কি না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর