শিরোনাম :
৬৩ কোটি টাকা লোপাট, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিলেটকে সবজি উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রে পরিণত করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় এনসিএল চারদিনের ম্যাচ চট্রগ্রাম-ময়মনসিংহ ম্যাচ নিষ্প্রান ড্র সিরাজগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বিএনপি রাজনীতি করে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী বগুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৮ জন বরিশালে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম / ১ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ: বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কালজয়ী গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ উৎসব আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু জন্মদিন পালন নয়, আমরা আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব করব। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা গাইবেন।’

তিনি জানান, বাউল উৎসব, লালন উৎসব ও হাসন উৎসবের পাশাপাশি যাত্রা ও সার্কাসকে নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবার নিয়ে দর্শকরা এসব সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে পারেন।

দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলার পথিকৃৎ আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম, মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল।

মহাপরিচালক মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা আবেগকে তিনি সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনধারাকে ভাওয়াইয়া সুরের মাধ্যমে আব্বাসউদ্দীন এমন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এছাড়া নজরুলের ইসলামি গান জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আব্বাসউদ্দীন আহমদের সৃষ্টি ও সংগীত-ঐতিহ্যকে স্মরণ করে অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় তাঁর জনপ্রিয় গান।

শিল্পী রেজাউল করিম লিমন ‘প্রাণ সখীরে, ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’ এবং ‘পরের অধীনে কইরাছে আমায়’ পরিবেশন করেন।

এরপর নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রাহাত আরা গীতি। শিল্পী নোশীন লায়লা গেয়ে শোনান ‘সে যেন কী করলোরে আমায়’ ও ‘আমায় এত রাত কেন ডাক দিলি প্রাণ কোকিলারে’। শিল্পী সালাউদ্দিন আহমদ পরিবেশন করেন ‘ভুলে যেও ভুলে যেও’ এবং ‘কুঁচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল পরিবেশন করেন আব্বাসউদ্দীনের কালজয়ী গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’। সবশেষে আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমির শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এবং ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’।

বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরা এবং দেশের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সবার জন্য ছিল উন্মুক্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর