বগুড়া নিউজ ২৪: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবারের (৭ নভেম্বর) এই হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনা, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। আলজাজিরার বরাতে খবরটি জানা গেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, ‘কিয়েভের উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।’ তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানায় ভবনটির ক্ষতি হয়েছে। অন্য একটি আবাসিক ভবনের সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। একটি কিন্ডারগার্টেন থাকা ভবনও ক্ষতির শিকার হয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরও নতুন করে হামলার আশঙ্কা নিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে যাচ্ছিলেন কর্মকর্তারা।
এদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা মিত্রদের নিরাপত্তা সহায়তা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চায় ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার রাতে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন জেলেনস্কি। এর আগে ব্রাসেলসে দুই দিন ধরে ইউক্রেনের মিত্রদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, আগামী বছরের অর্থায়ন এবং পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিশ্বব্যাংক এবং মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এই আলোচনা হওয়ার কথা, অর্থাৎ শনিবারের হামলার তিন দিন পর বৈঠকটি শুরু হবে। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ এ ধরনের আলোচনা হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে।
বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি শিগগিরই হতে পারে। তবে ওই দিন ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয়নি বলেও জানান তিনি।