শিরোনাম :
৬৩ কোটি টাকা লোপাট, সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিলেটকে সবজি উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রে পরিণত করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় এনসিএল চারদিনের ম্যাচ চট্রগ্রাম-ময়মনসিংহ ম্যাচ নিষ্প্রান ড্র সিরাজগঞ্জে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বিএনপি রাজনীতি করে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী বগুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৮ জন বরিশালে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন

ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে চন্দনা ও সুরমা, চিনবেন যেভাবে

প্রতিনিধির নাম / ৪ বার পাঠ করা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়া নিউজ: ইলিশের চড়া দাম ও বাজারে চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের বদলে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এসব মাছকে ইলিশ ভেবে কিনছেন। বিশেষ করে হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় আসল ইলিশ ও অন্য মাছের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দনা ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ হলেও এটি আসল ইলিশ নয়। অন্যদিকে সুরমা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ। তাই মাছের গঠন, রং ও গায়ের দাগ দেখে এদের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে পারেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। মাছটি মূলত সাগরে বসবাস করলেও প্রজননের জন্য নদীতে আসে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ চন্দনার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli। উপকূলীয় এলাকা, মোহনা ও জোয়ার-ভাটার নদীতে এ মাছের দেখা মেলে। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে এটি ‘চন্দনা ইলিশ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে মাছটিকে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম টোলি শ্যাড।

চন্দনার গায়ের রং রুপালি, যাতে হলদে আভা থাকতে পারে। ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ দেখা যায়। ওপরের চোয়ালের মাঝখানেও ছোট খাঁজ রয়েছে। সাধারণত এটি ইলিশের তুলনায় ছোট হয়। তবে শুধু আকার দেখে চন্দনা ও ইলিশের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

চন্দনা নামটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। Sardinella melanura নামের আরেকটি সামুদ্রিক মাছকেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়। মাছটি ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে ‘কালটিপ তাকিয়া’ও বলা হয়। এর লেজের ডগায় কালো রং থাকে। ফলে স্থানীয় নামের ওপর নির্ভর করে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে সুরমা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Scomberomorus commerson। এটি ম্যাকেরেল পরিবারের মাছ, যার ইংরেজি নাম কিং ম্যাকেরেল। অঞ্চলভেদে মাছটি ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’ নামেও পরিচিত।

সুরমার দেহ লম্বাটে ও দুই পাশ চাপা। পিঠ নীলচে রুপালি এবং পেট সাদাটে। শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ থাকে। এর চোয়ালে শক্ত দাঁত রয়েছে, যেগুলোর কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। এসব বৈশিষ্ট্য আসল ইলিশ থেকে সুরমাকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

ইলিশের উচ্চমূল্যও এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু বিক্রেতারা অন্য মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি ও টাকিয়াসহ বিভিন্ন মাছকে ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। আস্ত মাছ দেখে অভিজ্ঞ ক্রেতারা কিছুটা পার্থক্য বুঝতে পারলেও কাটা বা রান্না করা মাছের ক্ষেত্রে তা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। জাটকা হলো ইলিশের কিশোর পর্যায়ের মাছ, আলাদা কোনো প্রজাতি নয়। অন্যদিকে চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতির মাছ। তাই ছোট মাছ দেখেই সেটিকে চন্দনা বা জাটকা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর করা। একই মাছ অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। আবার একই স্থানীয় নামে একাধিক প্রজাতির মাছও পরিচিত হতে পারে।

বাজারে মাছ কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া ভালো। মাছের দেহের গঠন, রং ও গায়ের দাগ খেয়াল করতে হবে। চন্দনা সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট হয়, আর সুরমার শরীরে স্পষ্ট খাড়া কালচে দাগ থাকে। তবে একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

হোটেলে ইলিশের অর্ডার দেওয়ার আগে মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে কিংবা বিক্রেতা মাছের পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকা দরকার।

ইলিশ বাংলাদেশের নদী, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চন্দনা ও সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও সেগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর